স্বাস্থ্য সংকট মেটাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই: ডা. জুবাইদা রহমান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত আজ নানা সংকটে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে গুলশানের হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।’
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটে ফেলছে। এই ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি।
দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাতে-কলমে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম বা কার্যকর সংযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করাই যথেষ্ট নয়, এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করতে যাচ্ছি।’
স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমের মধ্যে জোরালো সমন্বয়ের তাগিদ দেন তিনি।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ।