EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রাজারহাটে ১৫ দিনে তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে ১৯টি বাড়ি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে তীব্র ভাঙন; স্কুল, মসজিদসহ দুই শতাধিক বাড়ি ঝুঁকিতে, দ্রুত প্রতিরোধের দাবি

ডেইলি সান রিপোর্ট, কুড়িগ্রাম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

রাজারহাটে ১৫ দিনে তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে ১৯টি বাড়ি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গত ১৫ দিনে অন্তত ১৯টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি কৃষিজমি, গাছপালা ও বিভিন্ন ফসল নদীতে চলে যাওয়ায় মানবিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীতে পানি কমলেও স্রোত ও বাতাসের প্রভাবে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে দুই গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। বাদাম, আমন ধানের বীজতলা, মরিচ, পাট, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা কাফি বলেন, মুহূর্তের মধ্যে নদী তাদের বাড়িঘর গ্রাস করেছে। চারটি ঘর কোনোভাবে সরিয়ে নিতে পারলেও তিনটি আমগাছ ও একটি জামগাছ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বাড়ি ভেঙে যাওয়ার শোক সইতে না পেরে তিন দিনের মাথায় তাঁর বাবা আবদুল কাদের (৬০) মারা যান। বর্তমানে পরিবারটি অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল ও মাঈদুল ইসলাম জানান, গত ১৫ দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের ১৯টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চর বিদ্যানন্দে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন কাফি, আবদুল জলিল, রশিদুল ইসলাম, গনি মুন্সী, মোতালিব, আশরাফুল, লোকমান, জয়নাল, আবদুস সালাম, রফিকুল ও শফিকুল। অন্যদিকে চর তৈয়বখাঁ গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোস্তফা কামাল, রোস্তম, সাত্তার, জহুরুল, আইয়ুব আলী, মোকছেদ, রওশন আরা ও ফকরুল ইসলাম।

চর তৈয়বখাঁ গ্রামের রোস্তম আলী বলেন, এ নিয়ে পাঁচবার তাঁর বাড়িভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। এবার আড়াই বিঘা জমির পাট ও আমন ধানের বীজতলাও নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আবদুল জলিল জানান, পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মসজিদ বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে এলাকার শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হবে। পাশাপাশি দুই শতাধিক বাড়ি এখন সরাসরি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এদিকে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার দুই গ্রামের বাসিন্দারা তিস্তা নদীর তীরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বক্তব্য দেন মাঈদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুল হকসহ স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও ভাঙনের মুখে রয়েছে। চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের ভাঙন এখন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার প্রায় ৪০টি স্থানে নদীভাঙন চলছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে দুই লাখ জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বাজেট না থাকায় সেখানে এখনো ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন