স্কুলছাত্রী মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে, অপমানে বাবার আত্মহত্যা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরে তার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক অপমান, মারধর ও লাগাতার হুমকি-ধমকি সহ্য করতে না পেরে মেয়ের বাবা আবুল কাসেম (৪২) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত আবুল কাসেম স্থানীয় একজন মুদি দোকানি ছিলেন।
জানা গেছে, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে আবুল কাসেমের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করেন। এ সময় বিয়েতে রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ওই স্কুলছাত্রী।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ১ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে সাইফুল ইসলাম মেয়েকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার শর্তে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই দাবিতে রাজি না হওয়ায় আবুল কাসেমকে বাড়ির সামনে মারধর করা হয় এবং পরিবারটিকে এলাকাছাড়া করা হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের।
নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, ‘সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে আমরা চার দিন ধরে ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা বারবার ফোন করে মেয়ে ও ২০ লাখ টাকা চাইছিল। আজ রবিবার সকালে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন। পরে আমরা এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে দেখি তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।’
আবুল কাসেমের ভাই আবুল কালাম বলেন, ভয়, অপমান ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই আমার ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, ‘আমার স্বামী বাড়িতে নেই। আর যতদূর জানি, তিনি ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়েও করেননি।’
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।