মূল্যবোধভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার: মাহদী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপিলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মাহদী আমিন।
দেশে একটি মূল্যবোধভিত্তিক, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা কাঠামোয় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে চালু করা হবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপিলার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যবইনির্ভর নয়, বরং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকেও বাধ্যতামূলক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল দর্শন হবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জোর করে শেখানো হবে না; বরং সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে এবং তাদের নিজস্ব মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে।”
মাহদী আমিন জানান, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শিক্ষা সংস্কারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান অনুমোদন হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার চায় উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা দেশের শিক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হোক, যাতে শিক্ষা সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়।
শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সারা দেশে অভিন্ন স্কুল ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, জুতা এবং মিড-ডে মিল কর্মসূচির মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার ঘটানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ শিক্ষক। তাই তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈষম্য হ্রাস এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার বাস্তবায়ন করছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমিক, দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।