EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সেতুমন্ত্রী

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের অংশ, ঝুঁকি নেই

ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের অংশ, ঝুঁকি নেই

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের ব্যাখ্যা দিল সরকার। এটি প্রকল্পের পরিকল্পিত কাজ এবং সেতুর নিরাপত্তায় কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের পরিকল্পিত কাজের অংশ এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়; প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট অপসারণ করে এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই রয়েছে।

রবিউল আলম বলেন, ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে। সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে ছয় ফুট পুরু পাইল ক্যাপ এবং এর আরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থেই সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি অপসারণের কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন