টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসা দখলে নিতে শতাধিক মোটরসাইকেলের মহড়া
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
গিয়ে নিজেদের ‘বড় নেতার লোক’ পরিচয় দিয়ে ঝুট ব্যবসা নিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি কারখানার সামনে শতাধিক মোটরসাইকেলের মহড়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মহড়ায় অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি কারখানায় ঢুকে নিজেদের ‘বড় নেতার লোক’ পরিচয় দিয়ে ঝুট (শিল্পবর্জ্য) ব্যবসা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া অন্য কাউকে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে টঙ্গী শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড ও হোসেন ডাইং কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা সূত্র জানায়, দুপুর ১১টা ৫৭ মিনিটের দিকে হঠাৎ শতাধিক মোটরসাইকেল কারখানার সামনে জড়ো হলে শ্রমিক-কর্মচারী এবং আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের অনেক দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুট ব্যবসা অন্য কাউকে না দেওয়ার কথা বলে চলে যান।
ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, "তারা একজন বড় নেতার লোক পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। বলে গেছেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না।"
তিনি জানান, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে বিদেশি ক্রেতারাও অবস্থান করছিলেন। এতে তারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
কারখানার সামনের কয়েকজন দোকানি জানান, মোটরসাইকেলের বড় বহর দেখে আতঙ্কে তারা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারখানাটি কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে ঝুট ব্যবসা নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, "ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। মোটরসাইকেল মহড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"