EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফের ফুঁসে উঠেছে তিস্তা, উজানের ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

ফের ফুঁসে উঠেছে তিস্তা, উজানের ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। একই সঙ্গে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। পরদিন তা কমে এলেও রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় উজানের ঢলে আবারও পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানির চাপ বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি প্রবেশ করেছে। ক্রমেই বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও শৈলমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বালুচর ও নিম্নাঞ্চলের বাদাম, আমনের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।

তিস্তাপাড়ের কৃষক জাফর উদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক শাহেদ মিয়া বলেন, উজানে আরও বৃষ্টি হলে পানির চাপ বাড়বে। তখন চরাঞ্চলের নতুন রোপণ করা আমনের চারা ও অন্যান্য ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আদিতমারী উপজেলার কুটিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কাচুয়া শেখ বলেন, চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিবন্দি মানুষজন শিশু, বয়স্ক ও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এর সঙ্গে সাপ-পোকার উপদ্রবও বেড়েছে।

সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের দবিয়ার হোসেন বলেন, বন্যার সময় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া। এতে রাত জেগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

এদিকে, তিস্তা তীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে নদীতে তীব্র পানিসংকট সৃষ্টি হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিরিক্ত ঢলে আকস্মিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে রোববার সন্ধ্যায় তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। সোমবার সকালে পানি কিছুটা কমলেও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে উঠতে পারে। স্বল্পমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি পানি নেমে গেলে নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন