EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে: জোনায়েদ সাকি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে: জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অতীতে সরকারি অর্থের লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে রাজস্ব বাড়াতে করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো জিডিপির তুলনায় ছোট। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের বিকল্প নেই।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা জরুরি। কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।"

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়ম কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় আরও কার্যকর করা হবে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন