EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সফল মালয়েশিয়া-চীন সফর: মাহদী আমিন

‘এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুসংহত হয়েছে এবং দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে’

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম

বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সফল মালয়েশিয়া-চীন সফর: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুসংহত হয়েছে এবং দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফর-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত এই বিদেশ সফরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল। প্রথমে তিনি মালয়েশিয়ায় দেশটির রাজা ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করেন। এরপর চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অধিবেশনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফরের শেষ পর্যায়ে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন বলেন, সফরের প্রতিটি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় সম্মান ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় সম্মানের বিষয়। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মান ও আস্থারই প্রতিফলন এটি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় মালয়েশিয়া ও চীনের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও চীন একযোগে কাজ করবে।

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে বিস্তৃত সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, দেশটির নিজস্ব নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

সম্ভাব্য আঞ্চলিক করিডোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে বিষয়টি এখনও পরিকল্পনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন আরও জানান, সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয় কোনো শোভাযাত্রা বা সমাবেশ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বেরই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন