ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে পুশইন ও অনুপ্রবেশের ঘটনা থামছেই না। এবার নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
অন্যদিকে দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোর ৪টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তচৌকি (বিওপি) এলাকার এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তিন পুরুষ, তিন নারী ও তিন শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ জন দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পুশইন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৫ ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ৪০ জনকে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এদিকে একই দিন ভোর ৬টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের শালকি-মৈজাকুড়ি এলাকায় ঘোরাফেরার সময় এক নারীসহ চারজনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আকুব্বর মোল্যা, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম এবং জাহানারার ছেলে ও ভাই।
শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পঙ্কজ বসাক জানান, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী তারা রাতের কোনো এক সময় বনতারা-গিলাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ভোরে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে।
ফুলবাড়ী-২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান বলেন, এটি পুশইন নয়, বরং অনুপ্রবেশের ঘটনা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।