অনলাইন জুয়া-হুন্ডির অভিযোগে ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল জারি করা সাইবার সিকিউরিটি আইন-২০২৬-এ অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান, বিজ্ঞাপন প্রচার এবং জুয়াসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিপণন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে গত মে মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে জমা দেয় বিএফআইইউ। এরই মধ্যে এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সম্পৃক্ততা শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, কোনো গ্রাহক বা মার্চেন্ট অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন জুয়া, হুন্ডি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।