ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসান জড়িত: চিফ প্রসিকিউটর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রবিবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইলিয়াস আলীর অপহরণ ও গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার অধীনে কর্মরত ছিলেন এমন এক সাবেক কর্মকর্তা।
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই সাক্ষী দাবি করেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র্যাব সদর দপ্তর থেকে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মহাখালী ফ্লাইওভারের এলাকায় যান। সেখানে একটি ‘টার্গেট’কে নজরদারির জন্য অবস্থান নেওয়া হলেও সেদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটিতে থাকাকালে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে কর্মস্থলে ফিরে র্যাব সদর দপ্তরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে জিয়াউল আহসানকে ফোনে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে শুনেছেন। ওই কথোপকথনে ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করার প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।
সাক্ষী আরও অভিযোগ করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র্যাব সদর দপ্তরের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।
রবিবার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে জিয়াউল আহসান বা তার আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।