EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

হাসিনা ও তার সহযোগীদের ৮০% জব্দ সম্পদ এখনো দুদকের নাগালের বাইরে

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

হাসিনা ও তার সহযোগীদের ৮০% জব্দ সম্পদ এখনো দুদকের নাগালের বাইরে
অ অ

শেখ হাসিনার সহযোগী ও স্বজনদের নামে জব্দ হওয়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের বড় অংশই এখনো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। আদালতের আদেশের পরও ৮০ শতাংশ স্থাবর সম্পদে রিসিভার নিয়োগ করতে পারেনি সংস্থাটি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগীদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছে না দুদক। আদালতের নির্দেশে দেশে-বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পদ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে সম্পদ অবরুদ্ধ থাকলেও কৌশলে এর সুবিধা ভোগ করছেন অভিযুক্তরাই।

দুদকের নথি অনুযায়ী, জব্দ হওয়া মোট সম্পদের মধ্যে দেশেই রয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। তবে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগেরই রিসিভার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম গ্রুপ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদসহ প্রভাবশালীরা এখনো এসব সম্পদের সুফল পাচ্ছেন।

রাজধানীর গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর সড়কে ‘ইস্টার্ন হারমোনি’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। আদালত এটি জব্দের আদেশ দিলেও সেখানে এখনো রিসিভার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সেগুনবাগিচায় শেখ রেহানার নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা বুঝে নিতে পারেনি দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, আদালতের আদেশের পর অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুমতি নিয়ে রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পদ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি সময়সাপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকেও বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নথিপত্র সংগ্রহ ও বিভিন্ন দপ্তরে তদন্তের জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। লোকবল সংকটের কারণে কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুদকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতিই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। সম্পদ থেকে অর্জিত আয় রিসিভারের কাছে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু দুদক আবেদন করে সেই নিয়ন্ত্রণ না নেওয়ায় মূল অভিযুক্তরাই সম্পদ ভোগ করছেন।

অবশ্য ধীরগতির মধ্যেও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর সম্পদে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদককে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হতে হবে।

আরও পড়ুন