জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া নতুন চুক্তি বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান/ ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ আশাবাদের কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এটি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
বাজার সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ), মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে জিসিসি ও মারকোসুরের মতো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রপ্তানি বাড়াতে ইউরোপ ও আমেরিকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান বাজারসমূহে বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ভিয়েতনামের বাজারে আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান—উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা ইতিপূর্বে ঘটেনি।
সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হয়। এজন্য প্রতিবছর সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। দীর্ঘ মেয়াদে সরকারি ব্যয় কমাতে বিদেশে নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা ও কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কূটনৈতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘ মেয়াদে সরকারি ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
