১৬ লাখ টন তেল কিনবে সরকার, সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
জিটুজি চুক্তির (সরকার-টু-সরকার) আওতায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এসব তেলের মূল্য প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমান।
এই বৃহৎ আমদানির মূল্য, প্রিমিয়াম, জাহাজ ভাড়া, বিমা ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে সমঝোতার জন্য আগামী শনিবার সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, জি-টু-জি ভিত্তিতে তেল ক্রয়ের দাম নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। তবে প্রিমিয়াম, জাহাজ ভাড়া, বিমা ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ে আলোচনা হবে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জি-টু-জি তেল ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে মন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
অতীতে সাধারণত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব আলোচনা পরিচালনা করলেও এবার মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সুবিধাজনক শর্তে জ্বালানি তেল আমদানির পথ সুগম করবে বলেও তারা জানান।
প্রতিনিধিদলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারাও থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য পরিশোধিত তেল আমদানির দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে বিপিসি। এতে প্রতি ব্যারেলে ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট পর্যন্ত প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় এ প্রিমিয়াম চাওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং প্রিমিয়ামও কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিপিসির কর্মকর্তারা।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক আমদানি করা হয় আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ জি-টু-জি চুক্তির আওতায় কেনা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি আছে।