EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ২০১১ সাল থেকেই গবেষণা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ২০১১ সাল থেকেই গবেষণা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
অ অ

বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে ২০১১ সাল থেকেই গবেষণা ও পরিকল্পনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের আর্থিক সহায়তা সরাসরি পুরুষের হাতে গেলে তা দ্রুত ব্যয় হয়ে যায়। অন্যদিকে, একই অর্থ কোনো গৃহিণীর হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি তা পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে ব্যয় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গবেষণায় আমরা দেখেছি, একজন নারী প্রথমেই পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো—যেমন ওষুধ, সন্তানের লেখাপড়া, পুষ্টিকর খাবার ও সঞ্চয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেন। ধীরে ধীরে সেই সঞ্চয় থেকেই অনেক নারী ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, নারীদের হাতে এই অর্থ গেলে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। কারণ তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাক, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনবেন, যা দেশীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে।

উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি গ্রামে যদি ৩০০ নারীকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়, তাহলে ওই গ্রামে প্রতি মাসে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রবাহিত হবে। এতে স্থানীয় দোকানপাটের বিক্রি বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”

তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষম করে তুলতে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থ দেশের ভেতরেই আবর্তিত হবে এবং তা স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করবে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় কারা সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরুতে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা থাকলেও পরবর্তীতে দুর্নীতির ঝুঁকি এড়াতে কর্মসূচিটিকে সর্বজনীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একজন কৃষকের স্ত্রী, একজন মুদি দোকানির স্ত্রী, একজন স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী কিংবা একজন মসজিদের শিক্ষকের স্ত্রী—সবাই এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। এমনকি যাদের প্রয়োজন নেই, তারাও কার্ড পাবেন। তবে যারা সুবিধা নেবেন না, তাদের অংশ রাষ্ট্রের কাছেই থেকে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি পরিবারের এই সহায়তার প্রয়োজন হবে না বলে সরকারের ধারণা।

তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে এক বছরের জন্য প্রায় ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাতে কোনো ধরনের ভুল বা অনিয়ম না হয়, সে জন্য গত তিন মাস ধরে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মসূচিটি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।”

আরও পড়ুন