শূন্যরেখায় তীব্র মানবিক সংকট, জ্বরে কাতর আড়াই বছরের শিশু
নতুন করে পুশইনের অভিযোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর মানবিক সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে তাদের অধিকাংশই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে আড়াই বছরের শিশু সামাদ উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শূন্যরেখায় অবস্থানরতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। সামাদের পাশাপাশি আরও তিন শিশু জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। বড়দের মধ্যেও ঠান্ডা, কাশি ও শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গোসলের সুযোগ না পাওয়া, মশার উপদ্রব এবং প্রচণ্ড গরমে পাটক্ষেতের মধ্যে অবস্থানের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
স্থানীয় চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, আড়াই বছরের শিশুটি উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত। অন্য তিন শিশুও জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ১২ জনকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার মধ্যেই নতুন করে তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চর বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এছাড়া আজ রবিবার সকালে চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে শাহাবুদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন ভোরে বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে ১৩ জুন বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরতদের নিজেদের হেফাজতে নিতে রাজি হয়নি।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “বিএসএফ বিষয়টি তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে। বর্তমানে ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখার প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও খুলনার কয়েকটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। মানবিক সংকটের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছেন।