EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমিয়ে নতুন শ্রমবাজারে নজর দিতে হবে: নুরুল হক

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমিয়ে নতুন শ্রমবাজারে নজর দিতে হবে: নুরুল হক
অ অ

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমিয়ে জাপানসহ বিশ্বের নতুন ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর রেনেসাঁস ঢাকা গুলশান হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার ডায়ালগ: এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার (বিজেকেসি)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

নুরুল হক নূর বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ থেকে ১৩ লাখ মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যান, যার প্রায় ৮০ শতাংশের গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কোনো একটি দেশের নীতিগত পরিবর্তন লাখো প্রবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা দীর্ঘদিন থাকবে না। তাই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে জাপান, ইউরোপসহ নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তাদের অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ তরুণ এবং প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রায় ৬ লাখ ৪৭ হাজার গ্র্যাজুয়েট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয় না হলে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, জাপানে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়নের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিজেকেসির নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতিমার সঞ্চালনায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) চেয়ারম্যান ড. নাজনীন, শিক্ষাবিদ ড. মুনিয়া আমিন এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর উপস্থিত ছিলেন।

আরভিং এডুকেশন ও প্রবাসী সেবা লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশি তরুণদের জন্য জাপানে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন