চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
চায়না-সাউথ এশিয়া ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে একাধিক প্রস্তাব
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
চার দিনের সরকারি সফর শেষে চীন থেকে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল। শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় তারা ঢাকায় পৌঁছান।
সফর শেষে কুনমিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রতিনিধিদলটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। বিদায়ের সময় ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর ইউয়ান ফাং ডেপুটি স্পিকারকে ভিআইপি প্রটোকলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।
চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে প্রতিনিধিদলটি ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরাম এবং ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে অংশ নেয়। ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো, নেপালের জাতীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দারি, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্ক মহাসচিব মোহাম্মদ গোলাম সরওয়ারসহ দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ডেপুটি স্পিকার। এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে ৮৪টি প্যাভিলিয়ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছে। ১৬ জুন পর্যন্ত চলমান এ মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সফরকালে ডেপুটি স্পিকার চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান, কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি ওয়াং নিং এবং ইউনানের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে তিনি কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি যোগাযোগ করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন এবং তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেপুটি স্পিকার চীনা নেতাদের জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
জবাবে চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সফরের শেষ দিনে ডেপুটি স্পিকার ইউনান প্রদেশে চালকবিহীন ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থার একটি পাইলট প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।
প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বিএনপির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব এবং সংরক্ষিত নারী আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জেসমিন সুলতানা জুঁই।
সফরটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।