৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ ঢাকার সড়ক, তীব্র যানজটে দুর্ভোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
মাত্র দুই ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে সন্ধ্যার পর রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে কর্মস্থল থেকে ফেরা মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা মুষলধারে বৃষ্টির পর সাড়ে ৫টার দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। এ সময় রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ, পথচারী ও যানবাহনচালকরা বিপাকে পড়েন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃষ্টির পরপরই মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, গুলশান, বাড্ডা ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। ফলে যানবাহনের গতি কমে আসে এবং একপর্যায়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
বিশেষ করে গুলশান, বনানী, মহাখালী, আসাদগেট, ফার্মগেট এবং কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সন্ধ্যার পর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির সময় অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ফ্লাইওভার ও ওভারপাসের নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল ও রিকশার জটলা তৈরি হয়, যা যান চলাচলে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা, ভ্যান কিংবা বিকল্প পরিবহনে চলাচল করতে দেখা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে রাজধানীর প্রায় সব প্রধান সড়কেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের এক কর্মকর্তা বলেন, “রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলেছে। এর ফলেই মূলত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। রাতেও রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে। আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।