বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং: জ্বালানিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকার পরও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে লাইন সম্প্রসারণ করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর আফতাবনগরে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী জানান, একটি স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল, যা অতীতে যথাযথভাবে হয়নি। বর্তমানে উৎপাদন ও সঞ্চালনে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও বিতরণ পর্যায়ের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যাকে লোডশেডিং বলা হয়, তা আসলে বিতরণ লাইনের ত্রুটি ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ঘটছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের কিছু এলাকায় অতিরিক্ত দীর্ঘ লাইন (৯০–১০০ কিলোমিটার) ব্যবহারের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে আদর্শ দৈর্ঘ্য ৩০–৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, এই অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। সমস্যা সমাধানে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা ও নতুন বিদ্যুৎ উৎস সংযুক্তির পরিকল্পনা পর্যালোচনা চলছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টে সরবরাহ শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতায় সময় লাগবে, তাই নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে তিনি বলেন, এসব চুক্তির কারণে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির কারণে চাইলেই চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে এবং আইনগত সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।