সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩৯ দস্যু আটক, ৪১ জেলে উদ্ধার
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান অভিযানে ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ, কুখ্যাত দস্যু সুমন হাওলাদারের আত্মসমর্পণ
ডেইলি সান রিপোর্ট, খুলনা
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে অব্যাহত অভিযানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জন জেলে-বাওয়ালীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
একই সময়ে অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকি-টকি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ধারাবাহিক এই অভিযানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় দস্যুরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে জানানো হয়।
পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সরকার ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, অবৈধ মাছ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ পাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড সক্রিয় রয়েছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার নিরাপত্তায়ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, বন্দর চ্যানেলে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রটোকল রুটে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ক্যাপ্টেন মেসবাউল সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতকে দস্যুবৃত্তি পরিহার করে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই আহ্বানে সাড়া দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়।