EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস

দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং চালুর দাবি বিশেষজ্ঞদের

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

দ্রুত ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং চালুর দাবি বিশেষজ্ঞদের
অ অ

দেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত করে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রবিবার (৭ জুন) বিকেলে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ট্রাস্ট এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। “খাদ্য নিরাপত্তা সবার দায়িত্ব” শীর্ষক এই সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক, সহজবোধ্য এবং বাধ্যতামূলক খাদ্য লেবেলিং ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে এবং এর বড় অংশই অকালমৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত মোড়কজাত এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য এসব রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সিএলপিএ ট্রাস্টের সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট কামরুন্নিছা মুন্না বলেন, নিরাপদ খাদ্য ভোক্তার মৌলিক অধিকার। জনগণ যেন সহজে খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারে, সে জন্য খাদ্যের মোড়কের সামনের অংশে স্পষ্ট ও বোধগম্য তথ্য প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, শুধু চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়, রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিকর উপাদান কমাতে উৎসাহিত করবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষক ডা. আহমাদ খাইরুল আবরার বলেন, অধিকাংশ প্যাকেটজাত খাদ্যের পুষ্টি তথ্য ছোট অক্ষরে এবং এমন স্থানে লেখা থাকে, যা ভোক্তারা সহজে দেখতে বা বুঝতে পারেন না। তাই মোড়কের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কতামূলক তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে সহজবোধ্য পুষ্টি তথ্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি দ্রুত এটি চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় আরও বলা হয়, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং সরকার, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন