EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য অমান্য করলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য অমান্য করলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
অ অ

পুলিশ সদস্য কিংবা সরকারি কর্মকর্তা—আইন অমান্য করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্যই সমান। আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করেন, তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মে মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সরকারি গাড়িগুলোতে হুটার ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন। সেখানে সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের গাড়ি আইন অমান্য করলে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হবে। জরুরি যানবাহন ছাড়া সাধারণ কোনো গাড়িতে হুটার বা উচ্চশব্দের হর্ন বাজানোর সুযোগ নেই। ট্রাফিক আইন ও বিধিতে এটি স্পষ্ট বলা আছে এবং এর বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

ইঞ্জিন নম্বরে চলা সরকারি কিংবা পুলিশের গাড়ির বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে মামলা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়ি সরকারি হোক বা বেসরকারি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী গাড়ি শনাক্ত করা হচ্ছে। সিস্টেম থেকে পাওয়া তথ্য শতভাগ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করেই মামলা দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের মে মাসের অভিযানের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বিদায়ী মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এসব মামলায় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্ত ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এতে একজনকে কারাদণ্ডসহ মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি একই সময়ে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করে ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মূল সড়কগুলোতে যেন কোনোভাবেই ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে না পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো মোটরযান নয়, তাই এগুলোর বিরুদ্ধে প্রথাগত মামলা করার সুযোগ নেই। তবে প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ রিকশা ডাম্পিং করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন