বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতার পথে ডিইডব্লিউ: নৌবাহিনী প্রধান
ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
দেশীয় প্রযুক্তি ও কারিগরি সক্ষমতার ভিত্তিতে বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ)। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবস্থিত ডিইডব্লিউ নির্মিত অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, বর্তমান সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আওতায় দেশীয় শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশে যে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ডিইডব্লিউর এই প্রকল্প তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তিনি বলেন, ডিইডব্লিউকে আধুনিক ও স্বনির্ভর শিপইয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় আকারের ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে হস্তান্তর করা বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় নির্মিত একটি আধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন। ক্রেনটির দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৩ মিটার। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এবং ৭০ টন পর্যন্ত ভার উত্তোলন করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেটি ও সমুদ্রে অবস্থানরত নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজের জটিল মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের কাজে ফ্লোটিং ক্রেনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে নৌবাহিনীর অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই ক্রেন দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডিইডব্লিউ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মোহাম্মদ ফয়জুল হক, নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিইডব্লিউ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ নৌবাহিনীর কারিগরি ও অপারেশনাল কার্যক্রমে কার্যকর অবদান রাখবে এবং দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।