শিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু আজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি ও নির্যাতন করা হয়। সেই অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে আজ।
সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন তৎকালীন যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আদালতে হাজির না করে তাদের টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়। পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে তাদের দুই পায়ে গুলি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আহত দুই নেতার ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ক্ষতস্থানে বালু ঢুকে সংক্রমণ ও পচন ধরায় শেষ পর্যন্ত দুজনেরই পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।