EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

চামড়া সংরক্ষণে মাঠে ৪ হাজার ভিডিপি সদস্য

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

চামড়া সংরক্ষণে মাঠে ৪ হাজার ভিডিপি সদস্য
অ অ

প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে নষ্ট হয় কোটি কোটি টাকার চামড়া। জাতীয় সম্পদের এই অপচয় রোধে এবং চামড়া শিল্পের সুরক্ষায় এবার ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। প্রথমবারের মতো বাহিনীর ৪ হাজার ১৫৩ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সদস্য মাঠপর্যায়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন ২৯টি জেলায় এই কার্যক্রম চালানো হয়। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বিস্তৃত ভিডিপির এই বিশাল নেটওয়ার্ককে চামড়া শিল্পে কাজে লাগানোর বিষয়টিকে অর্থনীতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষ হাতে চামড়া সংরক্ষণ

দেশে বছরে সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশই আসে কোরবানির ঈদ থেকে। এই চামড়া থেকে প্রতিবছর প্রায় ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তবে লবণ দিতে দেরি হওয়া কিংবা ভুল পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার মোদের দেশ গড়ার’—এই প্রত্যয় নিয়ে এবার জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভিডিপি সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে চামড়া ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি, পরিষ্কারকরণ, লবণের সঠিক পরিমাপ ও ভাঁজ করার কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়।

মাঠপর্যায়ে তৎপরতা ও সচেতনতা

ঈদের দিন সকাল থেকেই ৪টি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভিডিপি সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোরবানির স্থানে উপস্থিত থেকে তারা জবাইয়ের পর সঠিক নিয়মে চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন। চামড়ায় যেন কোনো ধরনের আঁচড় বা ছিদ্র না হয়, সে বিষয়ে তারা তদারকি করেন।

চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুততম সময়ে ছায়াযুক্ত স্থানে নেওয়া, মাংস ও চর্বি পরিষ্কার করা এবং সঠিক পরিমাণে লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করেন এই স্বেচ্ছাসেবীরা। বিশেষ করে স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার সংগ্রহ করা চামড়ার স্তূপে দ্রুত লবণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা রাখেন। একটি মাঝারি বা বড় গরুর চামড়ার জন্য ৮ থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়ার জন্য ২ থেকে ২.৫ কেজি লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করেন তারা।

পরিবহন ও নিরাপত্তায় সমন্বয়

সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পর চামড়া দ্রুত নির্ধারিত স্টোরিং পয়েন্ট বা ট্যানারিতে পৌঁছানো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঈদের দিনের পরিবহন সংকট মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে গাড়ি সমন্বয় এবং সতর্কতার সাথে চামড়া লোড করার দায়িত্বও পালন করেন ভিডিপি সদস্যরা। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে তাদের এই উপস্থিতি চামড়া সংগ্রহের সার্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে।

এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতি অল্প সময়ের পরিকল্পনায় চার বিভাগের ২৯টি জেলায় ৪ হাজার ১৫৩ জন প্রশিক্ষিত ভিডিপি সদস্যের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চামড়া নিয়ে প্রতিবছরের অনিশ্চয়তার চিত্র বদলে দিয়েছে। দেশের ৬০ লাখ সদস্যের এই বিশাল বাহিনীকে যদি পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এই কাজে নিয়োজিত করা যায়, তবে চামড়া খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

আরও পড়ুন