দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি সম্পূর্ণ সেবামূলক ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত ভূমিসেবা মেলা-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমিসেবা বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে মন্ত্রণালয় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এবারের ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা দালালি, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণকে হয়রানি করার চেষ্টা করে, তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের ভূমিসেবা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সেবার মানসিকতার পরিবর্তে কেউ যদি ‘শাসকের মনোভাব’ নিয়ে জনগণের সঙ্গে আচরণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূমিমন্ত্রী জানান, ভূমিসংক্রান্ত মামলা জট কমাতে সরকার দ্রুতই জাতীয় সংসদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করবে। একইসঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত সব সেবা একটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এ দেশের মানুষ সবসময় নিজেদের জমি ও পরিবার রক্ষায় দখলদারদের প্রতিহত করেছে। বিদেশিদের মধ্যে আমাদের কোনো প্রভু নেই, সবাই আমাদের বন্ধু। দেশের জনগণের জন্য যা ভালো, সরকার সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ভূমির জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, তবে একটি টেকসই, আধুনিক ও স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনতে চলমান প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর ফলে ভূমিসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হবে। এছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় দ্রুত নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ভূমিসেবা মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে সেরা তিনটি স্টলকে পুরস্কৃত করা হয় এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।