EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে হুমকিতে পড়বে মানবসভ্যতা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে হুমকিতে পড়বে মানবসভ্যতা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
অ অ

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য টিকে থাকলেই মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নিরাপদ থাকবে। মানুষের উদাসীনতা, ভোগবাদী আচরণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ মে) “স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব” শীর্ষক এক অনলাইন সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, পিএসডিআই ফাউন্ডেশন এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। প্রতি বছর ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—“বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ”।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সংস্থার কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্কুল অব হেলথ সায়েন্সেস ও পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং প্ল্যাটফর্ম ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (পিএসডিআই) ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাহিদা পারভীন।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনও হুমকির মুখে পড়ে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ছোট ছোট সচেতন উদ্যোগ বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাহিদা পারভীন বলেন, নগর এলাকায় গাছপালা কমে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, মাটির ক্ষয়, বন্যা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপদাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, এসিতে ব্যবহৃত সিএফসি ও এইচএফসি গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি করছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে। নদী ও জলাশয় দূষণের ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তামাক চাষ আবাদযোগ্য জমির উর্বরতা নষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি তামাকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানান।

সভা থেকে নগরে উন্মুক্ত মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণ, নদী-খাল ও জলাভূমি দখলমুক্ত রাখা, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, নতুন ভবনে সবুজায়ন নিশ্চিত করা, দেশীয় গাছ ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং হাঁটা, সাইকেল ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন