EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিশ্ব আরবান ফোরামে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সাশ্রয়ী আবাসনের রূপরেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

বিশ্ব আরবান ফোরামে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সাশ্রয়ী আবাসনের রূপরেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ
অ অ

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আরবান ফোরাম-১৩’ (ডব্লিউইউএফ-১৩)-এ পরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী আবাসন ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৭ থেকে ২২ মে) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন ও ‘নিউ আরবান এজেন্ডা’ (এনইউএ) বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসা. ফেরদৌসী বেগম।

তার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। বাংলাদেশসহ ৫৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এ ফোরামে অংশ নেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পিত নগরায়ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ চারটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, জলবায়ু সহনশীলতা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং টেকসই নগর উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জানায়, নতুন ‘স্পেশাল প্ল্যানিং অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প ও উত্তরা তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলছে।

সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইল বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য আবাসন নির্মাণে উৎসাহ দিতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) প্রণোদনা চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে।

এছাড়া জলবায়ু উপযোগী নগর পরিকল্পনা, সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং টেকসই নির্মাণ ব্যবস্থায় অংশীদারত্বমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে বাংলাদেশ। পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, নগর সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে ইউএন-হ্যাবিট্যাট, বিশ্বব্যাংক, ইউএনওপিএস ও ইউএনইএসসিএপি’র সহযোগিতার প্রশংসা করে। বিশেষ করে কক্সবাজারে ভূমিধস ও ভূমি ধস মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব আরবান ফোরামে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষকেন্দ্রিক নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন