কাঠগড়ায় ‘আয়নাবাজি’ করতে গিয়ে অবশেষে ধরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
পর্দার জনপ্রিয় সিনেমা ‘আয়নাবাজি’র মতোই বাস্তব জীবনে ঘটল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। প্রতারণার মামলায় বড় বোনের হয়ে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন এক নারী। জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারীর চেহারার অমিল ধরা পড়তেই বেরিয়ে আসে ‘প্রক্সি আত্মসমর্পণ’-এর আসল ঘটনা। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন। আইনজীবীরা জানান, অভিযুক্ত নারীর নাম ভাবনা।
ঘটনার শুরু গত ১২ মে। সেদিন বড় বোন শারমিন আক্তার একার পক্ষে ছোট বোন আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। তবে ১৪ মে রিমান্ড শুনানির সময় বাদীপক্ষ দাবি করে, কাঠগড়ায় উপস্থিত নারী প্রকৃত আসামি নন। পরে আদালতের নির্দেশে মুখ দেখানোর পর জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে তার অমিল পাওয়া যায়।
এরপর আদালত নির্দেশ দেন, প্রকৃত পরিচয় যাচাই করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দিতে।
তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম গত ১৫ মে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, শারমিন আক্তার একা পরিচয়ে আইনজীবী রাজু আহমেদ রাজিবের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত সনদ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা প্রয়োজন, এজন্য রিমান্ড জরুরি।
সোমবার রিমান্ড শুনানির সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, কাঠগড়ায় উপস্থিত তরুণী শারমিন আক্তার একা নন, তিনি ভাবনা। তিনি মামলার আসামি নন। বোনের হয়ে প্রক্সি দিয়েছেন, তা প্রমাণ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভিন্ন মামলা হবে। যেহেতু ভুল স্বীকার করা হয়েছে, তার অব্যাহতি চাই।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী রকিবুল ইসলাম ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, প্রতারণার সঙ্গে ওই নারী জড়িত থাকায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, মামলাটি প্রাচীন পিলারের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ‘কুফরি-কালাম’ ও ‘শয়তানের নিঃশ্বাসের’ মাধ্যমে এক ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়। এতে আরও অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার জমিও লিখে নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী আজিজুল আলম উত্তরা পূর্ব থানায় শারমিন আক্তার একাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় এর আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে দুজন জামিনে রয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র বিদেশে অর্থ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে জড়ায়। পরে বিভিন্ন ‘মন্ত্র-তন্ত্র’ ও ভয়ভীতির মাধ্যমে টাকা, স্বর্ণালংকার ও জমি হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ আছে, ‘জ্বিনের মা’ পরিচয়ে ফোন করে এবং ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে হুমকি দিয়ে বিপুল অর্থ দাবি করা হয়।