অপরিকল্পিত হকার পুনর্বাসন নগরজীবনে আরও সংকট তৈরি করতে পারে: আইপিডি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া ফুটপাত ও সড়কে হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ রাজধানীসহ দেশের নগরজীবনে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, অপরিণামদর্শী ও স্বেচ্ছাচারীভাবে হকারদের পুনর্বাসন নাগরিকদের চলাচল, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রণীত ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আইপিডি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে।
সংস্থাটি বলেছে, হকার সমস্যা শুধু ঢাকার নয়; দেশের বিভিন্ন নগর এলাকাতেও ফুটপাত দখল, পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তাহীনতা জনজীবনে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। তাই শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, সারা দেশের নগর এলাকার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
আইপিডির মতে, হকার নীতিমালা প্রণয়ন সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও এতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর সুযোগ করে দেওয়াকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি হকার উচ্ছেদের ফলে রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পথচারীদের চলাচলে যে স্বস্তি ফিরেছিল, নতুন উদ্যোগে তা আবারও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসানোর আইনি বৈধতা এবং এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রস্তাবিত নীতিমালায় পথচারীদের জন্য মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্ত আধুনিক নগর পরিকল্পনার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় ৮-১০ ফুট, বাণিজ্যিক এলাকায় ১০-১৬ ফুট এবং উচ্চ ঘনত্বপূর্ণ এলাকায় ২০-৪০ ফুট ফুটপাত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, বাসস্টপ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মাত্র ৩০-৪০ ফুট দূরত্বে হকার বসানোর সুযোগ রাখাকেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে আইপিডি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অন্তত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকার বসতে দেওয়া হয় না বলেও জানানো হয়।
তবে নীতিমালায় হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট ও হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা।
আইপিডি বলেছে, হকারদের নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদানের কথা থাকলেও বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ও এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এছাড়া হকার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নাগরিক প্রতিনিধি না রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি মনে করে, ফুটপাত দখলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু পুনর্বাসন নয়, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একই সঙ্গে হকার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত লাইনম্যান, প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক গোষ্ঠী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিটি করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।
সংস্থাটি বলেছে, দখলদার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।