মোড়কজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি-লবণ শনাক্তে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চালুর দাবি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
মোড়কজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করতে কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের সতর্কবার্তা এখন সময়ের দাবি।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং: বিদ্যমান আইন ও নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
আলোচনা সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক–সিনেট।
বক্তারা বলেন, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজ ভাষা, চিহ্ন বা সতর্কবার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়— কোনো পণ্যে চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ট্রান্স-ফ্যাটের মাত্রা অতিরিক্ত কি না। এর ফলে ভোক্তারা দ্রুত ও সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য বেছে নিতে উৎসাহিত হন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আমল। তিনি বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই এসব রোগের কারণে ঘটে। ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও প্রায় ১৯ শতাংশ। এই বাস্তবতায় অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কার্যকর উদ্যোগ।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশু ও তরুণদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও এসব পণ্যের পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় না। ফলে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হন এবং অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন।
তারা আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ শিশুদের মধ্যে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আলোচনায় জানানো হয়, দেশে চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০১৬ সালে যেখানে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশে। পাশাপাশি, অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি, যার বড় অংশই ওষুধ ক্রয়ে ব্যয় হয়।
বক্তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। নিরাপদ খাদ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং চালু করা হলে ভোক্তারা খাদ্যের ঝুঁকি সহজে বুঝতে পারবেন, বিভ্রান্তিকর বিপণন কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
আলোচনা সভা থেকে দ্রুত কার্যকর, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ও উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার। নীতি বিশ্লেষক কামরুননিছা মুন্নার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট সুলতান মুহাম্মদ বান্না, ব্যারিস্টার বিভতি তরফদার, অ্যাডভোকেট মমতাজ পারভীন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. মোস্তফা খান, ডাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, সেতু ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাগুফতা সুলতানাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।