ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাওর পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী: কৃষকের কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা অনেক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল হারানোর বেদনা অনেক। কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উন্নয়নে সরকার বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কৃষকদের কাছ থেকে ভেজা ধান সরকারি গুদামে সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে ধান সংগ্রহের জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ সরকার কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চায়।
কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার সড়ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সড়কটি পানিপ্রবাহে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। কোথাও সমস্যা চিহ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে অনুকূল আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওরসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরের পানি অনেকটাই কমেছে। পানিতে তলিয়ে থাকা ধানক্ষেতের অনেক অংশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কেটে আনা ধান শুকানোর কাজও চালিয়ে যেতে পারছেন তারা।
তবে এখনো বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত পানির নিচে থাকায় ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ঢলের পানিতে এর মধ্যে ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।