EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, পঞ্চগড়

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: শিল্পমন্ত্রী
অ অ

দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এ প্রক্রিয়ায় আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (৯ মে) পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের কারখানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো দেশের মানুষের সম্পদ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সরকার চায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করুক।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ চিনিকলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করায় আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে পুনরায় চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

এ সময় বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন এবং পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষী প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে দৈনিক ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন আখ মাড়াই সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন