EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা
অ অ

দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি এবং একটি আধুনিক পাইলট ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে সামনে রেখে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর, যাতে এ অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর আকাশপথের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাময় বগুড়াকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

তিনি আরও জানান, দেশে দক্ষ বৈমানিকের চাহিদা পূরণে বগুড়ায় একটি আধুনিক ফ্লাইং একাডেমি গড়ে তোলা হবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি করা হবে, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের জন্য সাড়ে ১০ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, বগুড়ার কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এখানে আধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপিত হলে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি আরও জানান, নতুন আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সেগুলো ভবিষ্যতে বগুড়া ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে।

এর আগে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া বিমানবন্দরে পৌঁছান মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন