ডুপ্লিকেশন কমাতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা একীভূত করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় কাজের দ্বৈততা কমিয়ে আরও সমন্বিত, আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সেবাকে একীভূত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেনের স্ভেরিয়ে যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা হবে সম্পূর্ণ পুনর্গঠিত ও সময়োপযোগী। পরিবার পরিকল্পনার বিদ্যমান কাঠামোকে তিনি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় বিবর্তন আনতেই হবে।
মাঠপর্যায়ের সেবায় বিদ্যমান ডুপ্লিকেশন বা কাজের পুনরাবৃত্তি কমাতে নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. মুহিত জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী তিন থেকে চারটি আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। এর ফলে একই এলাকায় একাধিক কর্মী একই ধরনের সেবা দিলেও অনেক দূরবর্তী জনগোষ্ঠী সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার আরও এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমান কর্মীদের সঙ্গে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যুক্ত করে মোট প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তাদের জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন এবং ‘এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ নিশ্চিত করা হবে, যাতে সেবার মান দেশজুড়ে একরূপ থাকে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, এখন থেকে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “একই বাড়িতে তিনবার আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই কাভারেজ গ্যাপ আর থাকবে না।”
গর্ভনিরোধক ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই হার ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া সম্পদ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে।
স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থের ঘাটতির চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অদক্ষতা এবং সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা। তিনি জানান, সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য বাজেটের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
এ সময় তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
নীতি সংলাপের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, সুইডিশ দূতাবাসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, জনসংখ্যা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুর রব, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা ডা. ইয়াসমিন এইচ আহমেদ, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল এবং সিনিয়র পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. আবু জামিল ফয়সেল।