EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তালায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি মিতু, ফিরতে চায় স্বাভাবিক জীবনে

ডেইলি সান রিপোর্ট, খুলনা

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

তালায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি মিতু, ফিরতে চায় স্বাভাবিক জীবনে

তালায় প্রায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি মিতু খাতুন।

অ অ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন মিতু খাতুন (২৪)। শৈশব থেকেই মানসিক অসুস্থতায় ভোগা এই তরুণীর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে পায়ে শিকল ও বেড়ি নিয়ে।মানবিক এই পরিস্থিতি এলাকায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মিতু সঠিক চিকিৎসা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে জানান তার মা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মিতুর মানসিক ভারসাম্যজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সেই সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো। এতে তার স্বাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ছোট্ট একটি পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তার দৈনন্দিন জীবন।

মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। এরপর থেকে সংসারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছোট ছেলে, যিনি ঢাকার একটি বেকারিতে কাজ করেন। মাসে প্রায় আট হাজার টাকা আয়ে পরিবারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। অর্থাভাবের কারণে মেয়ের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

হাসিনা বেগমের আশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে মিতু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান মিতুর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পরিবারটিকে প্রাথমিকভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি এই তরুণীকে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে মিতুর জীবনেও ফিরতে পারে স্বাভাবিকতার আলো।

আরও পড়ুন