যুবদলের কমিটিতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি, কমিটি বিলুপ্ত
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ফেনী
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে দল থেকে বহিষ্কার এবং সদ্য ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেন। এতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে জানা যায়, ২০১৭ সালে খালেদা জিয়া-এর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার জেরে ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন।
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদল ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে এবং ৩০ এপ্রিল ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে। একই সঙ্গে তথ্য গোপন করে পদ গ্রহণের অভিযোগে গাজী এনামুল হক সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না এবং নেতাকর্মীদের তাকে সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের অভিযোগে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়া-এর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়। ওই তালিকায় গাজী এনামুল হক সুজনের নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন অভিযোগ করেন, সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন। হামলার মামলার আসামিকে পদ দেওয়ায় তাদের পক্ষে ওই কমিটিতে থাকা সম্ভব নয় বলেই তারা পদত্যাগ করেছেন।
অভিযুক্ত সুজন দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে মামলা ‘মিথ্যা’ এবং এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে হয়েছে।
অন্যদিকে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে আগেই অবগত করা হয়েছিল।
ফেনী জেলা যুবদলের দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতা মো. আল ইমরান জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি স্থগিত, ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।