EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রংপুর

ঝড়-বৃষ্টিতে ঝরছে হাঁড়িভাঙ্গা আম, লোকসানের মুখে চাষীরা

৩০ ভাগ ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা 

ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ঝড়-বৃষ্টিতে ঝরছে হাঁড়িভাঙ্গা আম, লোকসানের মুখে চাষীরা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সাম্প্রতিক ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দেশ-বিদেশে সমাদৃত জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ শতাংশের বেশি আমের গুটি ঝরে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চাষীরা। আটি আসার ঠিক আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পদাগঞ্জ এলাকার বাগান মালিক ও লীজি চাষীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিলের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় হাঁড়িভাঙ্গার রাজধানী খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ ও আশপাশের সব বাগান থেকে টনকে টন আম ঝরে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পদাগঞ্জ থেকে তেকানী হয়ে রানীপুকুর সড়কে ভ্যানে করে আমের বস্তা পরিবহন করা হচ্ছে। অনেকে ঝরে পড়া আম কুড়িয়ে বিক্রি করছেন, অনেকে আত্মীয়স্বজনের কাছে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।

মিঠাপুকুরের তেকানী গ্রামের চাষী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এবার আল্লাহ আম দিছিল যথেষ্ট। আমরা যত্নও ভালো করলাম। কিন্তু কয়েকদিনের ঝড়ে যে আমটা ক্ষতি হয়ে গেলো, পড়ে গেলো। বড় বড় পাথরসহ বৃষ্টি হইছে। আমাদের মন মানসিকতা খুব খারাপ। অন্তত হাফ পারসেন্ট আম পড়ে গেছে। আল্লাহ আম দেয় তবুও অনেক পয়সা ব্যয় হয়। ওষুধ, সার অনেক কিছু। এখন যে অবস্থা আল্লাহ যদি দয়া করি আর ঝড় বাদল না দেয়, তাহলে হয়ত কিছু ফলন পাওয়া যাবে। আর যদি দাম না হয় তাহলে মাঠে মারা যাব আমরা।’

রুকুনিগঞ্জ গ্রামের চাষী মিন্টু মিয়া জানান, তার এক একর বাগানে আড়াইশটি গাছ আছে। এ বছর ৪০০ মণ আমের আশা ছিল, কিন্তু শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় ১০০ মণের মতো আম নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আর মাত্র ১৫ দিন পর আটি হতো আমে। তখন ঝরলেও কিছু বিক্রি করা যেত। কিন্তু আটি হওয়ার আগেই ঝরে যাওয়ায় বিক্রিও করতে পারছি না। ধারদেনা করে ইতিমধ্যে ১ লাখ টাকা খরচ করেছি। যদি দাম না পাই তাহলে ফতুর হয়ে যাব।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন লিজি চাষীরা। খোড়াগাছের ওয়ার্ড মেম্বার মমদেল হোসেন জানান, প্রায় ৩৫ একর জমি লিজ নিয়েছেন ৭০ লাখ টাকায়। এ পর্যন্ত বাগান পরিচর্যায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আটি আসার আগেই চারবার ঝড়-শিলাবৃষ্টির মুখে পড়ে ২ হাজার মণেরও বেশি আম ঝরে গেছে।

ময়েনপুরের লিজি চাষী সাহাদত হোসেন জানান, তার ৮ একর বাগানে ঝরে পড়া আম ছাড়াও আরও ২০ ভাগ আম শিলার আঘাতে ফেটে ও ফুটো হয়ে গেছে, যেগুলো আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে ঝরে পড়বে। তিনি বলেন, এবার কোনোভাবেই খরচ তুলতে পারব না।

তবে কৃষি বিভাগ ভিন্ন কথা বলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর জোনের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রকৃতি এবার যে থিনিংয়ের কাজটি করে দিয়েছে তাতে অবশিষ্ট আমের আকার বড় হবে। তাই ফলনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় আপাতত শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে ভারী বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি স্বীকার করেন।

রংপুর আঞ্চলিক খামারবাড়ি সূত্রে জানা যায়, এ বছর রংপুর অঞ্চলে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ থেকে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ফলনের আশা ছিল। কিন্তু ঝড়বৃষ্টিতে ৩০ ভাগ ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই আমের বাজারজাত সাধারণত ১০ থেকে ২০ জুনের মধ্যে শুরু হয়।

আরও পড়ুন