EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ‘বৈষম্য’ দূর করার তাগিদ আইনমন্ত্রীর

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ‘বৈষম্য’ দূর করার তাগিদ আইনমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বার কাউন্সিল পরীক্ষার সংস্কার ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও ইউএনডিপি আয়োজিত আইন স্নাতকদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের সমাপনী এবং দ্বিতীয় ব্যাচের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন।

দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক করা ২৫ জনের সমাবর্তন আয়োজন করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও ইউএনডিপি।

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বিদ্যমান ‘বৈষম্যের’ কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বার কাউন্সিল পরীক্ষাতে একটা ডিসপ্যারিটি (অসমতা) আছে, আমি এনরোলমেন্ট কমিটির মেম্বার হিসেবে দেখেছি। আমাদের অনেক মেধাবী ছেলেরা যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে এসেছে, যারা বিদেশে লেখাপড়া করেছে, তাদের একটা কঠিন বাস্তবতা পার হতে হয়।

“বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাহেব আছেন, বার কাউন্সিলের সদস্য আছেন এখানে। উনাদের অনুরোধ করব, এই বিষয়গুলো আপনারা একটু ভালো করে খতিয়ে দেখবেন; কীভাবে এটাকে আরও বেশি যুগোপযোগী করা যায়।”

সংসদীয় কার্যক্রমে তরুণ আইনজীবীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, সংসদ সদস্যদের জন্য একজন করে ইন্টার্ন দেওয়া যায় কি না বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এই ইন্টার্নরা সংসদ সদস্যদের রিসার্চ ওয়ার্কগুলো করে দেবেন পর্যায়ক্রমিকভাবে।

“এখান থেকে দুটি লাভ হবে, একটি হল আইন প্রণয়নের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত হতে পারবেন, কীভাবে আইন প্রণয়ন হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কীভাবে রাজনীতিকে, রাজনৈতিক পরিবেশকে একটি সুস্থ, পরিশীলিত এবং যুক্তিতর্কের জায়গায় আনা যায়, এরকম একটি জায়গা হয়ত আমরা তৈরি করতে পারব।”

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের অবকাঠামো সংকট নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে বসার জায়গা নাই। খুব কষ্ট হয় আমাদের সহকর্মী ও সাবেক কলিগদের বসার জন্য। এটাকে আরও কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায়, সে মর্মে আমি ইতোমধ্যেই বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আমার অফিসকে নির্দেশ দিয়েছি; যাতে বাজেটে এই খাতে কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীনদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের পেশাদার জীবনের ভিত্তি সর্বদা তিনটি জিনিসের ওপর দাঁড় করান উচিত। সংবিধান, পেশাদার আচরণবিধি এবং অটল সততা। আপনারা এমন সব মুহূর্তের সম্মুখীন হবেন, যেখানে সহজ পথটি প্রলুব্ধ করবে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, কখনোই ন্যায়বিচারের সঙ্গে আপস করবেন না।”

অনুষ্ঠানে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের মৃত্যুতে শোক জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এজি অফিস ও ইউএনডিপির এই যৌথ উদ্যোগ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি নিদর্শন।

তিনি বলেন, প্রথম ব্যাচের ইন্টার্নরা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মামলাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, ঢাকায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন গুলব্র্যান্ডসন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ও আরশাদুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন