কুষ্টিয়া
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, আস্তানা ভাঙচুর
‘দীর্ঘদিন ধরে আস্তানা গড়ে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা শামীম রেজার কিছু বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।’
ডেইলি সান রিপোর্ট, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
কথিত পীর শামীম রেজার আস্তানায় জনতার হামলা। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে এক কথিত পিরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (পির জাহাঙ্গীর) নামে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে তুলে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি পুরোনো হতে পারে।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি তাকে ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়। গুরুতর আহত পীর জাহাঙ্গীর মৃত্যু ঘটে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি পুরোনো হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালে একই ধরনের অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, কয়েকশো জনতা হামলায় অংশগ্রহণ করে। অল্পসংখ্যক পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
তিনি দাবি করেন, পুলিশ আহত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।