EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

স্বল্প আয়ের পরিবারে ধার কমেছে, স্বস্তি এনেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

দুশ্চিন্তা কমিয়ে স্বস্তি দিচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: উপকৃত হচ্ছেন ৩৭ হাজারের বেশি নারী

যায়েদ হোসেন মিশু

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

স্বল্প আয়ের পরিবারে ধার কমেছে, স্বস্তি এনেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মাস শেষে ধার-দেনা আর দুশ্চিন্তা যাদের নিত্যসঙ্গী, সেই স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জীবনে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।

দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মিটিয়ে বাচ্চাদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, জামা-কাপড় সব চাহিদাই পূরণ করতে হয় সীমিত অর্থে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তা তাদের জীবনে এনে দিয়েছে একটু স্বস্তি।

গত ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় হাজারও নারী মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। যার পরিবারে কেউ নেই বা দেখার কেউ তার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। অঙ্কটা ছোট হলেও এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। মাস শেষে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

স্বামী মারা যাওয়ার পর ছোট সন্তানকে নিয়ে কড়াইল বস্তির একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন হালিমা। পরিবারে কেউ না থাকায় খাবার হোটেলে রান্নার কাজ করে সংসারের খরচ চালান তিনি। এই অর্থ পাওয়ায় তার জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘এখন বর্ষার সময়। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি জমে যায়। তখন রান্না করতে পারিনা। আমি নিজেও অসুস্থ ছিলাম। ঈদের আগে ঠিক ভাবে কাজ করতে পারিনি। ঐ সময়ে সরকারের টাকা আমার অনেক উপকারে এসেছে। প্রতি মাসেই টাকাটা পেলে আমার খরচ চালানো আরেকটু সহজ হবে।’

কড়াইল বস্তির আরেক বাসিন্দা মঞ্জু বেগম বলেন, ‘ছেলেরা কেউ দেখেনা, স্বামীও মারা গেছে। আগে দুইটা বাসায় কাজ করতাম, এখন এক বাসায় কাজ করি। বয়স হইছে, চোখে অসুখ। আমি কোনোদিন কোনো সরকারের কাছ থেকে এক টাকাও পাই নাই। এই প্রথম সরকার টাকা দিছে। টাকা হাতে নিয়েই চোখের ডাক্তার দেখাইছি।’

মহাখালীর সাততলা বস্তির আকলিমা বলেন, ‘আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে। কোনোদিন বেশি টাকা পায়, আবার কোনোদিন কম টাকা। বাচ্চাদের পড়াশোনার আর সংসারের খরচ চালাতে প্রতি মাসে হিমশিম খেতে হয়। মাসের শেষে আবার ধার-দেনা তো লেগেই থাকে। গত মাসে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে এমাসে ধার কম হইছে।’ তিন সন্তান নিয়ে তাদের টানাটানির সংসারে স্বস্তি এনেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

এদিকে, নগদ অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন কি না, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়। আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই কর্মসূচিতে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন