ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে পঞ্চম ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নির্মূল প্রকল্প’-এর পঞ্চম ধাপ দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রীতে এনইউএস ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি)। এতে সহযোগিতা করে নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস), বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ), টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (টিজিডাবলুএফ), ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিডাব্লুইএ), শি-লিড এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি)।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত। অর্থাৎ প্রতি তিনজন শিশু শ্রমিকের মধ্যে একজন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াইডব্লিউডিআরসি’র এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়বে। প্রধান অতিথি নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের প্রতিনিধি আব্দুল মমিন বলেন, শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে সরিয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যুক্ত করাই টেকসই সমাধান।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে পূর্ববর্তী উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়নের ধীরগতি ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
সভা থেকে সরকারের প্রতি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পঞ্চম ধাপ দ্রুত বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরত শিশুদের সনাক্ত করে পুনর্বাসন ও শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নির্মূলে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।