পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১, মরদেহ ভারতে
ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে বুধবার ভোরে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মো. আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীনে ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। প্রথম গুলির শব্দ রাত ২টা ৫০ মিনিটে এবং পরেরটি ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে শোনা যায়।
বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে প্রবেশ করে তারকাঁটা বেড়া কাটার চেষ্টা করলে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে ধবলগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পানিয়ারটারী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএসএফ তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলী হোসেন ছিলেন আব্দুল গফুরের পুত্র, পেশায় একজন কৃষক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে।
স্থানীয়রা মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন। এছাড়া সীমান্তে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিজিবি ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ভারতে রয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থা মনে করাচ্ছে, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ, যা প্রায়ই গুলির ঘটনা ও প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।