সশস্ত্র বাহিনী বিভাগেরও দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শামছুল ইসলাম
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগেরও দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলাম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিয়োগ এবং দায়িত্ব/দপ্তর বণ্টন করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হলো।
শিক্ষাজীবন
শামছুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণীতে ময়মনসিংহ জেলায় প্রথম হয়ে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ অর্জন করেন। এছাড়াও ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে প্রথম শ্রেণিতে মিলিটারি টেকনোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে বাংলাদেশের নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি বিষয়ে প্রথম ডক্টরেট (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশেষ সামরিক ও কৌশলগত প্রশিক্ষণ
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শামছুল ইসলাম পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন— বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, চীন, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৭টি দেশে।
সামরিক একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে ওসমানী গোল্ড মেডেল লাভ করেন শামছুল ইসলাম। বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হিসেবে দেশে ও বিদেশে স্টাফ কলেজ এবং গানারী স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি।
পেশাগত অভিজ্ঞতা
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শামছুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চৌকস ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গোতে ফোর্স কমান্ডারের স্টাফ অফিসার ও ডেপুটি কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন। কঙ্গোর জনগণের ভালোবাসায় তার পক্ষে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বানানোর দাবিতে মিছিল পর্যন্ত হয়। শামছুল ইসলাম ইরাকে প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যেখানে তিনি ইরাক সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে গণতন্ত্র, সুশাসন, মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স, সিভিল সোসাইটি ট্রেনিং, ও কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।