EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বাতিলের প্রস্তাবে উদ্বেগ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বাতিলের প্রস্তাবে উদ্বেগ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৫-এর ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লক্ষাধিক তরুণ নেশার ঝুঁকিতে পড়বে এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। তামাকবিরোধী ১৮টি সংগঠন যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ই-সিগারেটকে বৈধতা দেওয়া হলে এটি তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাগে ই-সিগারেট পাওয়া যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ই-সিগারেটের রাসায়নিক উপাদান নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তিনি জনস্বার্থে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞ আলোচক অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর হিসেবে উপস্থাপনের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এটিকে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন দেশে ধূমপান ত্যাগে সহায়ক ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তখন কেন নতুন করে একটি নেশাজাত পণ্যকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একাত্তর টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর সুশান্ত সিনহা বলেন, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেটকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দেশে সেটিকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে, যা উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের ধারাও বাতিলের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিপন্থী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে ধাপে ধাপে তামাক ব্যবহার কমাতে হবে এবং নতুন তামাকজাত পণ্য উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। তিনি ই-সিগারেটসহ সকল ক্ষতিকর নেশাজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এটি বৈধতা পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বের ৪১টি দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে। বক্তারা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ওপর জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তরুণ সমাজকে রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের কাছে কঠোর নীতিগত অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন