রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নীতি সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
রংপুর অঞ্চলের মানুষের চাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের জড়তা বা ‘লজ্জা’ কাজ করে। এই বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে নতুন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলের ‘সমতাভিত্তিক উন্নয়ন ও শিল্পায়ন ভাবনা’ শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্লপনা বিষয়ক উপদেস্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, ‘রংপুরের সন্তান হিসেবে আমি বলতে চাই, আমাদের অঞ্চলের মানুষের মুখে কথা একটু কম। চাওয়ার ব্যাপারে এক ধরনের লজ্জা কাজ করে, যা সম্ভবত এই অঞ্চলের মানুষের মজ্জাগত। কিন্তু সরকার এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে রংপুরের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা দেবে। এখানে জমি ও শ্রম সস্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার। ফলে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত এলাকা।’
আসাদুল হাবিব আরও বলেন, নতুন সরকারের লক্ষ্য হলো বৈষম্য নিরসন করা। প্রধানমন্ত্রীও এই অঞ্চলকে সম্ভাবনাময় মনে করেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অর্থ উপদেষ্টার এই সফর। আগামী বাজেটে এই অঞ্চলের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি সহায়তা প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের জন্য কোন কোন পণ্যে কর সহায়তা প্রয়োজন, সেটি স্থানীয় অংশীজনরাই ঠিক করবেন। সরকার আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলের বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং বড় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই অঞ্চলে প্রস্তাবিত শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে কি অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে নাকি কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা হবে, সেটি নির্দিষ্ট করে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সরকার দ্রুত কাজ শুরু করবে।’
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।