EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

৩ দিনে কক্সবাজার ভ্রমণে সাড়ে ৩ লাখ পর্যটক, ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্য

ঈদের পরদিন থেকে গত তিন দিনে (২২-২৪ মার্চ) বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে

ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

৩ দিনে কক্সবাজার ভ্রমণে সাড়ে ৩ লাখ পর্যটক, ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্য
অ অ

ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। ঈদের পরদিন থেকে গত তিন দিনে (২২-২৪ মার্চ) বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, এই সময়ে কক্সবাজারে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো পর্যটকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ সাগরের লোনা জলে গা ভাসাচ্ছেন, কেউ সৈকতের বালিয়াড়িতে বিচবাইক ও ঘোড়ায় চড়ে সময় কাটাচ্ছেন। কিটকটে বসে সমুদ্রের হিমেল হাওয়া উপভোগ করতেও দেখা গেছে অনেককে। তবে পর্যটকদের বড় অংশই মেতে ছিলেন ছবি তোলা আর সেলফিতে।

ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা পর্যটক আবদুল মতিন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছি। পরিবেশ খুব ভালো, তবে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ 

একই অভিযোগ করেছেন আরও বেশ কয়েকজন পর্যটক।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেবার দাম কিছুটা বেড়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘ভাড়া ও খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় আমাদের নিয়মিত তদারকি চলছে।’

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তিন দিনে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটক এসেছেন। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভিড় থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহেদ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে হোটেল মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এটা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, রুপসী গোয়ালিয়া, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ও শহরের বার্মিজ মার্কেটসহ জেলার সবক’টি বিনোদন কেন্দ্র আগত পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের টিম ও বিভিন্ন সাদা পোশাকের টহল দল নিয়মিত সক্রিয় রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।

আরও পড়ুন