EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায়: রাষ্ট্রপতি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায়: রাষ্ট্রপতি
অ অ

আগামীকাল ২৫ মার্চ, ভয়াল কালরাত ও জাতীয় ‘গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি ২৫ মার্চকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও অগণিত নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। 

আজকের এই দিনে আমি সব শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি, তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এসময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা-বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসম সাহসী করে তুলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস পর লাখ-লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়। 

তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যদিকে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর বহুকাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি বাণীতে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা-যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। আসুন, ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে আমরা শহীদদের এই চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে সমবেতভাবে কাজ করি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই।

বাণীর শেষে তিনি ২৫ মার্চসহ দেশমাতৃকার সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

আরও পড়ুন